বাকৃবিতে জলবায়ু-সহিষ্ণু পদ্ধতিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ বিষয়ক প্রারম্ভিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে ‘Climate-Smart Approaches for Combating Antimicrobial Resistance and Safeguarding Food Safety in Livestock Ecosystems through One Health Approaches’ শীর্ষক প্রকল্পের এক প্রারম্ভিক কর্মশালা ০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত HEAT-ATF প্রকল্পের আওতায় বাকৃবি’র ফার্মাকোলজি বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এসোসিয়েট প্রফেসর ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি’র ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (Deltin 7 BangladeshRES) পরিচালক প্রফেসর ড. মো: হাম্মাদুর রহমান। ফার্মাকোলজি বিভাগের এম. এস. শিক্ষার্থী মোছা: সানজিদা পারভীন এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন SPMT সদস্য প্রফেসর ড. মো. জহুরুল ইসলাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (SPM) এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার। পরবর্তীতে মূল প্রবন্ধের উপর অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা প্রাণিসম্পদ ইকোসিস্টেমে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বিশ্বে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য এক বড় হুমকি। ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ বা সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে জলবায়ু-সহিষ্ণু পদ্ধতি ব্যবহার করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন "আমি মনে করি যে, এটি একটি ভালো কাজ। অত্যন্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আপনি যে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছেন, এর প্রায় ৬০ শতাংশ আপনার বিভাগীয় উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। সেই উন্নয়নের বিষয়গুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং সত্যিকার অর্থে মাঠ পর্যায়ের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিবে এবং এ প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে। এগুলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরো দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হবে, এমনকি বিশ্বজুড়ে জায়গা করে নিবে।
তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত এই প্রকল্পটি আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য উপকারী হবে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে। এবং আমাদের দেশের যেগুলো জরুরি সমস্যা, গবাদিপশু থেকে শুরু করে সমন্বিত স্বাস্থ্য, মানব স্বাস্থ্য সব মিলিয়ে এবং এ প্রকল্পের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সব সমস্যাগুলোকে আপনারা আপনাদের সীমিত বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন। এই গবেষণা দলের ওপর আমার সেই আস্থা আছে। তিনি এই প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।