বাকৃবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্মানে দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ময়মনসিংহে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্মানে দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার সন্ধ্যা ৭.০০টায় বাকৃবি শিক্ষক কমপ্লেক্সে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম সরদার। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড.শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ'র সঞ্চালনায় শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের জন্য এবং এখনো যাঁরা জীবিত আছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মো: হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, প্রফেসর ড. মো: সামছুল আলম, প্রফেসর ড. মো: হাম্মাদুর রহমান, প্রফেসর ড. আলী রেজা ফারুক, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন, মহিলা সংঘের সাধারণ সম্পাদিকা কৃষিবিদ সোমা, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য মো: নুরুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর (অব:) মো: জয়নুল আবেদিন মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুল ইসলাম এবং অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ বুদ্ধিজীবি সহকারী অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়ার বড়সন্তান এবং ভাইস-চ্যান্সেলর এর সহধর্মিণী মিসেস দিলরুবা আশরাফ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এদেশের ভূমিজ সন্তানদের বৈশিষ্টই হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, অপশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যা আমরা ১৯৫২ সন থেকে শুরু করে ২০২৪ সনে প্রত্যক্ষ করেছি। সামনের দিনগুলোতেও যদি কোন অপশক্তি আবার বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে চায় তাহলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনগণ প্রতিবাদে গর্জে ওঠবে, এটাই আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট ও গর্বের বিষয়। তিনি ১৯৭১ সনে ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনাবলীর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ,শহীদ মুক্তিযোদ্ধা,শহীদ বুদ্ধিজীবী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেসময়কার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের প্রতি ঘৃনা ও ধিক্কার জানান। ১৯৭১ এর চেতনা আমাদের সবাইকে লালন করার আহবান জানান তিনি এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে এবং বিশেষভাবে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর(অব:) মো: জয়নুল আবেদীন মিয়া, শহীদ বুদ্ধিজীবি পরিবারের বড় সন্তান মিসেস রুবা আশরাফ ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে স্মারক উপহার প্রদান করেন এবং মিসেস রুবা আশরাফ এর নিকট থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও দুস্থ পরিবারের সদস্য মোছা: আনু বেগম, মো: শহীদুল ইসলাম, মো: শাজাহান, মো: সফিউদ্দিন সুবল আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. মাসুম আহমাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো: মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো: আবদুল আলীম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. আহমদ খায়রুল হাসান, সহকারী প্রক্টরবৃন্দসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।